আলিয়া ছড়া খাসিয়া পুঞ্জি: পাহাড়, পান চাষ ও ঐতিহ্যের এক অনন্য জনপদ
প্রতিবেদন: মোঃ মানজুর হোসাইন
হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার পাহাড়ি সবুজে ঘেরা একটি নান্দনিক জনপদের নাম আলিয়া ছড়া খাসিয়া পুঞ্জি। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, খাসিয়া জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং শতবর্ষী পান চাষের ঐতিহ্যের কারণে এ পুঞ্জি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। পাহাড়, টিলা, বনভূমি ও পানের বরজে ঘেরা এই জনপদ যেন প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনস্থল।
খাসিয়া সম্প্রদায় মূলত ভারতের মেঘালয় অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠী। ইতিহাসবিদদের মতে, তারা কয়েক শত বছর আগে আসাম ও খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড় থেকে বর্তমান বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে। খাসিয়ারা তাদের গ্রামকে “পুঞ্জি” নামে অভিহিত করে থাকে। আলিয়া ছড়া খাসিয়া পুঞ্জি সেই ঐতিহ্যবাহী বসতিগুলোর অন্যতম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলিয়া ছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে বর্তমান খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসবাস শুরু হয় ১৯৫৫ সালের দিকে। বর্তমানে এখানে প্রায় ১২৫টি খাসিয়া পরিবার বসবাস করছে। নিজেদের সংস্কৃতি, ভাষা ও সামাজিক রীতিনীতি সংরক্ষণ করে তারা শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করছে।
খাসিয়া সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তাদের মাতৃতান্ত্রিক সামাজিক ব্যবস্থা। পরিবার ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার মায়ের বংশধারা অনুসারে নির্ধারিত হয়। পুঞ্জির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন ‘মন্ত্রী’ বা প্রধান থাকেন, যিনি স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে নেতৃত্ব প্রদান করেন।
আলিয়া ছড়া পুঞ্জির অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি পান চাষ। পাহাড়ি টিলাজুড়ে বিস্তৃত পানের বরজ এখানকার মানুষের জীবিকার মূল উৎস। এছাড়াও লেবু, মাল্টা, আনারস, কলাসহ বিভিন্ন ফলের চাষ করা হয়। স্থানীয় খাসিয়াদের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে এসব ফসল উৎপাদন করে আসছেন। এক সময় এ এলাকায় প্রায় ৫৯০ একর জমিতে পানের চাষ হতো এবং শত শত খাসিয়া পরিবার এ পেশার সঙ্গে জড়িত ছিল।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকেও আলিয়া ছড়া খাসিয়া পুঞ্জি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। চারদিকে সবুজ পাহাড়, ঘন বনভূমি এবং পানের বরজ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। যারা প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও আদিবাসী জীবনধারা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য এ স্থান হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য।
তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা ক্ষেত্রে এখনও উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে আলিয়া ছড়া খাসিয়া পুঞ্জি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
| ফজর | 04:31 am ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:10 pm দুপুর |
| আছর | 04:45pm বিকাল |
| মাগরিব | 06:15 pm সন্ধ্যা |
| এশা | 07:30 pm রাত |
| জুম্মা | 1:30 pm দুপুর |