| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

এসএসসি’র ব্যর্থতায় কাঠগড়ায় শিক্ষকরা: একতরফা দোষারোপ ও লাঞ্ছনার নেপথ্যে কী?

রিপোর্টারের নামঃ দৈনিক শিবপুর দর্পণ
  • আপডেট টাইম : 12-08-2026 ইং
  • 4771 বার পঠিত
এসএসসি’র ব্যর্থতায় কাঠগড়ায় শিক্ষকরা: একতরফা দোষারোপ ও লাঞ্ছনার নেপথ্যে কী?
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহিত ছবি

এসএসসি’র ব্যর্থতায় কাঠগড়ায় শিক্ষকরা: একতরফা দোষারোপ ও লাঞ্ছনার নেপথ্যে কী?

মানজুর হোসাইন

সারাদেশে সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফলের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা ঘটছে। কোথাও শিক্ষকদের রুমে তালাবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে, কোথাও আবার তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, অপমানিত ও আর্থিক জরিমানা করার মতো ঘটনাও সামনে আসছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এই ব্যর্থতার পেছনে কি শুধুই শিক্ষকরা দায়ী? খতিয়ে দেখলে উঠে আসে এক ভিন্ন বাস্তবচিত্র।


একতরফা দোষারোপ ও শিক্ষকদের লাঞ্ছনা

ফলাফল বিপর্যয়ের পর কিছু কিছু এলাকায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের উগ্র আচরণ প্রকাশ পাচ্ছে। পরীক্ষা কেন্দ্রিক ব্যর্থতার সব দায় চাপানো হচ্ছে শিক্ষকদের কাঁধে। অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষকদের এভাবে অপরাধী হিসেবে দাঁড় করানো কেবল অন্যায়ই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার সম্মানহানি করছে।

শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় চরম উদাসীনতা

তদন্ত ও মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরীক্ষার এই ফলাফলের পেছনে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদাসীনতা একটি বড় কারণ। ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত না হওয়া, পড়ালেখায় গুরুত্ব না দেওয়া এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অবহেলা করার প্রবণতা শিক্ষার্থীদের মাঝে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থীই ন্যূনতম পাসের জন্য যতটুকু পড়াশোনা দরকার, তাও করছে না।


মোবাইল আসক্তি: একবিংশ শতাব্দীর মহামারি,

শিক্ষার্থীদের এই ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে দেখা দিয়েছে অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল আসক্তি। করোনাকালের পর থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে স্মার্টফোন। পড়ালেখার অজুহাতে কেনা এই ডিভাইস এখন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। রাত জেগে গেম খেলা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুঁদ হয়ে থাকা এবং টিকটক বা রিলস ভিডিও তৈরিতে ব্যস্ত থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলছে।


অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব:

সন্তানদের এই অধঃপতনের পেছনে অভিভাবকদেরও বড় দায় রয়েছে। অনেক অভিভাবকই সন্তানের হাতে দামি স্মার্টফোন তুলে দিয়ে নিজের দায়িত্ব শেষ মনে করেন। সন্তান ঠিকমতো পড়াশোনা করছে কিনা, কার সাথে মিশছে, কিংবা মোবাইল স্ক্রিনে কতটা সময় কাটাচ্ছে—সে বিষয়ে তদারকি একদমই নেই। অথচ ফলাফল খারাপ হওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে শিক্ষকদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ছেন তারা।


সমন্বিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই:

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—এই তিন পক্ষেরই সমান দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষকরা ক্লাসে পাঠদান করবেন, কিন্তু বাড়িতে শিক্ষার্থীকে পড়ার টেবিলে বসানোর দায়িত্ব অভিভাবকের। মোবাইল আসক্তি দূর করতে পরিবারকেই প্রথম ভূমিকা নিতে হবে। শিক্ষকদের ওপর সব দোষ চাপিয়ে বা তাদের লাঞ্ছিত করে শিক্ষার মান উন্নত করা অসম্ভব, বরং এতে শিক্ষকদের মনোবল ভেঙে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক শিবপুর দর্পণ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ